মূল লেখা বা বিষয়বস্তুতে যান (Skip to content)
t.w

পথের দাবী

📅14 August 2026(৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩)•⏱3 min read•👁8 readers
🎬রিল দেখুনReel →
পথের দাবী
Instagram Reel

🎬 পথের দাবী - এর ইনস্টাগ্রাম রিল দেখুন

Watch the official video reel on Instagram for visuals & narration

ইনস্টাগ্রামে দেখুনWatch Reel →

“If a law is unjust, a man is not only right to disobey it, he is obligated to do so.”

একটা অন্যায় আইন মেনে চলা কি সত্যিই কর্তব্য?

নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই মানুষের অধিকার?

প্রায় ১০০ বছর আগে লেখা একটি উপন্যাসে স্বাধীনতা শব্দটার অর্থ আসলে অধিকার—এই কথাটাই যেন সাহিত্যসম্রাট বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

উপন্যাসটির নাম— পথের দাবী।

১৯২২ থেকে ১৯২৬—এই সময়কালে বঙ্গবাণী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় উপন্যাসটি।

অবশেষে ৩১শে আগস্ট, ১৯২৬—বই আকারে প্রকাশিত হলো পথের দাবী।

প্রথম সংস্করণ—মাত্র ৫,০০০ কপি।

আর আশ্চর্যের বিষয়?

মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সব বিক্রি।

আজকের মতো তখন কোনো bestseller list ছিল না। ছিল না social media promotion। ছিল না on। ine marketing।

তবুও প্রথম সংস্করণের ৫,০০০ কপি যেন বাজার থেকে উধাও হয়ে গেল মাত্র সাত দিনে।

আর এই উন্মাদনাই শেষ পর্যন্ত নজরে আনল ব্রিটিশ সরকারের।

পুলিশ পৌঁছে গেল বঙ্গবাণী-র দপ্তরে।

উদ্দেশ্য একটাই— বই বাজেয়াপ্ত করা।

কিন্তু সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখল—

কোথাও কোনো বই নেই।

একটিও কপি নেই।

শেষ পর্যন্ত প্রকাশকের ছোট বোনের কাছে থাকা একটি কপি বাজেয়াপ্ত করেই পুলিশকে ফিরতে হলো।

ভাবুন একবার—

একটা উপন্যাসকে নিষিদ্ধ করার জন্য একটা সাম্রাজ্য বই খুঁজছে, আর বই যেন তার আগেই মানুষের হাতে হাতে ছড়িয়ে গেছে।

এরপর আসে আরও গুরুতর ঘটনা।

১৯২৬ সালের নভেম্বর মাসে, Public Prosecutor মত দেন যে পথের দাবী-কে Criminal Procedure Code-এর Section 99A-এর অধীনে নিষিদ্ধ করা যেতে পারে এবং Section 124A-এর অধীনে লেখক ও মুদ্রকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

অর্থাৎ ব্রিটিশ সরকার শুধু বইটি পড়েই থামেনি।

তারা খুঁজতে শুরু করেছিল—

এই বইয়ের ঠিক কোন কথাটা এত বিপজ্জনক?

আর সেই বিপদের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে একটি ধারণা—

নিজের পথ বেছে নেওয়ার অধিকার।

সব্যসাচীর কণ্ঠে যেন সেই দাবিই—

“পথের দাবী আমার তর্কশাস্ত্রের টোল নয়, এ আমার পথ চলার অধিকারের জোর। ”

এই একটি কথার মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে উপন্যাসটির নামের আসল অর্থ।

পথের দাবী।

নিজের পথ বেছে নেওয়ার অধিকার। নিজের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার অধিকার। নিজের স্বাধীনতা দাবি করার অধিকার।

আর ব্রিটিশ সরকার ঠিক এই জায়গাটাতেই ভয় পেয়েছিল।

কারণ বন্দুক হাতে একজন বিপ্লবীকে দমন করা যায়।

কিন্তু—

যদি একটা বই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগিয়ে দেয়?

যদি মানুষ নিজের অধিকার নিয়ে ভাবতে শুরু করে?

আর পথের দাবী-তে এমন একজন চরিত্র ছিল, যাকে নিয়ে সেই সময় ব্রিটিশ সরকার এতটাই আতঙ্কিত হয়েছিল যে—

আজও তার কথা বলতে গেলে গল্পটা আরও গভীরে নিয়ে যেতে হয়।

সে কে?

আর ব্রিটিশ সরকার আসলে কীসের ভয় পেয়েছিল?

সেটাই বলব পরবর্তী পর্বে।

— thoughts.whatever
Continue The Journey

ধারাবাহিক পর্বসমূহ