কমলাকান্তের দপ্তর | অন্তিম পর্ব

কমলাকান্তের দপ্তর - অন্তিম পর্ব বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
মনের সুখে মনের মতন কথা কহিব—এমন লোক কোথায়?” — কামালকান্ত
আসলে কামালকান্তের নেশা আফিম নয়। তার সবচেয়ে বড় নেশা—সে খুব বেশি ভাবতে ভালোবাসে।
আর ভাবতে ভাবতে এমন জায়গায় চলে যায়, যেখানে সাধারণ বুদ্ধি পৌঁছতে একটু সময় নেয়।
কখনও একটা "বিড়াল" তাকে সমাজ বোঝায়। কখনও নিজের "নেশা" তাকে মানুষ বোঝায়। আর কখনও—দেশ।
কামালকান্তের নেশাটা একটা literary device।
বাস্তব পৃথিবীটা একটু ঝাপসা হলেই— সমাজের absurdity-গুলো যেন আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
সে রাজনীতি,ক্ষমতা,ধর্ম,মানুষের লোভ দেখে— আর সবকিছুকে নিজের অদ্ভুত logic দিয়ে উল্টেপাল্টে দেখে।
এই জন্যই কামালকান্তকে পুরোপুরি serious-ও নেওয়া যায় না। আবার একেবারেই হেসে উড়িয়েও দেওয়া যায় না।
কারণ কমলাকান্তের নেশাতুর ভাবনা গুলির ভিতরেই সাহিত্য সম্রাটের গভীর দার্শনিক চিন্তাগুলি লুকিয়ে আছে।
আর এখানেই কামালাকান্তের দপ্তর আজও surprisingly fresh।
আজ আমাদের হাতে আফিমের বদলে smartphone।
আচ্ছা ভাবুন আজ কমলাকান্ত যদি থাকতেন হয়তো তিনিও একটা Insta account খুলতেন— আর নাম দিতেন “thoughts.কামালাকান্ত”।
তারপর দুটো post-এর পরেই—account restricted.
কারণ লোকটা probably algorithm-এর চেয়ে অনেক বেশি unpredictable।
কিন্তু মজার ব্যাপারটা হল- সময় বদলেছে। কিন্তু মানুষকে নিয়ে বঙ্কিমবাবুর দর্শন অর্ধ-শতবর্ষ পরেও প্রাসঙ্গিক।
কারণ কামালকান্ত আসলে কোনো একটি যুগের মানুষ নয়। সে সেই মানুষ— যে একটু দূরে দাঁড়িয়ে নিজের সময়টাকে দেখে, হাসে, তারপর হঠাৎ এমন একটা কথা বলে ফেলে—যেটা হাসির থেকেও বেশি সত্যি।
তাই কামালকান্তের দপ্তর পড়লে শেষ পর্যন্ত কামালকান্তকে নিয়ে যতটা না হাসি পায়, তার চেয়ে —বঙ্কিমবাবুর এমন অদ্ভুত লেখনীর প্রতি শ্রদ্ধা জন্মায়
যে লোকটা আফিম খেত। তাঁর ঘোরের মধ্যে যে ফিলোসোফি জন্মেছিল— সেটা আজও বেশ sober।
