মূল লেখা বা বিষয়বস্তুতে যান (Skip to content)
t.w

পথের দাবী | অন্তিম পর্ব

📅16 August 2026(১ ভাদ্র ১৪৩৩)•⏱2 min read•👁10 readers
🎬রিল দেখুনReel →
পথের দাবী | অন্তিম পর্ব
Instagram Reel

🎬 পথের দাবী | অন্তিম পর্ব - এর ইনস্টাগ্রাম রিল দেখুন

Watch the official video reel on Instagram for visuals & narration

ইনস্টাগ্রামে দেখুনWatch Reel →

“The truth will set you free, but first it will piss you off.”

সত্য মানুষকে মুক্ত করে। কিন্তু তার আগে— সত্য মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলে।

আর পথের দাবী ঠিক সেই কাজটাই করেছিল।

১৯২৬ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিল উপন্যাসটি।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়— লেখক চলে যাওয়ার পরেও বইটি মুক্তি পায়নি।

শরৎচন্দ্র মারা গেলেন ১৯৩৮ সালে। কিন্তু তখনও পথের দাবী ব্রিটিশ আইনের কাছে নিষিদ্ধ বই।

অর্থাৎ—

লেখক চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর বই তখনও বন্দি।

তারপর আসে শরৎচন্দ্রের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।

কলকাতার অ্যালবার্ট হলে সভা বসে। সেখানে দাবি ওঠে—

পথের দাবীর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

শেষ পর্যন্ত ১লা মার্চ, ১৯৩৯, ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন বঙ্গ সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

আর কয়েক মাসের মধ্যেই—

এপ্রিল, ১৯৩৯।

বেরিয়ে আসে পথের দাবী-র দ্বিতীয় সংস্করণ।

কী অদ্ভুত ইতিহাস!

যে বইকে একটা সাম্রাজ্য চুপ করিয়ে দিতে চেয়েছিল, তার নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হলো—

লেখককে ছাড়াই।

আর এখানেই গল্পটা আরও অদ্ভুত হয়ে যায়।

শরৎচন্দ্র নিজেও পথের দাবী-র একটি sequelলেখার পরিকল্পনা করেছিলেন।

কিন্তু অসুস্থতা তাঁকে থামিয়ে দেয়।

তবে হয়তো পথের দাবী-র সবচেয়ে বড় sequelকোনো বইয়ের পাতায় লেখা হয়নি।

লেখা হয়েছিল মানুষের মধ্যে।

কারণ পথের দাবী স্বাধীনতাকে শুধু শাসক বদলের নাম করেনি।

তার স্বাধীনতার ধারণা আরও অনেক দূর যায়।

শরৎচন্দ্রের ভাবনায়—

রাজনৈতিক স্বাধীনতা শেষ কথা নয়।

তার পরেও আছে ধর্ম, শান্তি, কাব্য, আনন্দ।

আর হয়তো এখানেই পথের দাবী আজও আমাদের সঙ্গে কথা বলে।

কারণ স্বাধীনতা শুধু পতাকার নয়।

শুধু সীমান্তের নয়।

শুধু একটা দেশের নাম বদলে যাওয়ারও নয়।

স্বাধীনতা মানে মানুষের জীবনে এমন একটা জায়গা তৈরি করা, যেখানে ধর্ম থাকতে পারে, শান্তি থাকতে পারে, সাহিত্য থাকতে পারে, ভালোবাসা থাকতে পারে, আর আনন্দও সত্যিই বেঁচে থাকতে পারে।

তাই পথের দাবী ১৯২৬-এ লেখা হলেও তার যাত্রা ১৯৪৭-এ শেষ হয়নি।

কারণ সাম্রাজ্য চলে যায়।

কিন্তু—

পরাধীনতার কিছু অভ্যাস থেকে যায়।

ভয় থেকে যায়। প্রশ্ন করতে না চাওয়ার অভ্যাস থেকে যায়। অন্যায়কে মেনে নেওয়ার অভ্যাস থেকে যায়।

আর সেই কারণেই আজও পথের দাবী পড়া মানে শুধু স্বাধীনতার ইতিহাস পড়া নয়।

স্বাধীনতার অর্থটাকে আবার পড়া।

একশো বছর আগে সব্যসাচী প্রশ্ন করেছিলেন—

নিজের পথ বেছে নেওয়ার অধিকার কার?

হয়তো একশো বছর পরেও সেই প্রশ্নটার উত্তর আমাদেরই দিতে হবে।

কারণ স্বাধীনতা একবার অর্জন করে রেখে দেওয়ার জিনিস নয়। স্বাধীনতা প্রতিটি প্রজন্মকে নতুন করে অর্জন করতে হয়।

এই ছিল পথের দাবী। একটি নিষিদ্ধ উপন্যাসের গল্প নয়— একটি অসমাপ্ত স্বাধীনতার গল্প।

— thoughts.whatever
Continue The Journey

ধারাবাহিক পর্বসমূহ