চোখের বালি | পর্ব-২

একজন মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার জন্য তাকে এটুকুই বোঝানো যথেষ্ট যে, অন্যেরাই তার জন্য ভালো সিদ্ধান্ত নেবে।
ভালোবাসা আর অধিকার—এই দুটো কি একই জিনিস?
চোখের বালি-র সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি—পছন্দ করার অধিকার।
বিনোদিনীর জীবন শুরু হওয়ার সময় থেকেই অন্যেরাই লিখছে। কখন বিয়ে হবে, কীভাবে বাঁচবেন, কী পড়বেন, আর কী বা চাইতে পারবেন—এ সবই ঠিক করেছে সমাজ।
যখন প্রথমবারের জন্য নিজের ইচ্ছাকে চিনতে শিখলেন, ঠিক তখনই সেই ইচ্ছাকে সমাজ অপরাধ বলে ঘোষণা করল।
রবীন্দ্রনাথ বলতে চেয়েছিলেন যে, মানুষ কোনোদিন নিজের জীবন বেছে নিতে শেখেনি, সে ভালোবাসাকেও স্বাধীনভাবে বেছে নিতে পারে না।
রবীন্দ্রনাথ বিনোদিনীকে চরিত্রায়ন করেছিলেন একজন নিজের অস্তিত্ব অনুভব করতে পারা বিধবা হিসেবে।
আজও আমরা স্বাধীনতার কথা বলি, কিন্তু নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কতজন সত্যিই নিজের জীবন নিজের মতো করে বেছে নিতে পারি?
From career, বিয়ে, সন্তান-সন্ততির পরিকল্পনা to everyday। ifesty। e, এ সবের অনেক সিদ্ধান্তই এখনও সমাজ ঠিক করে দেয়।
আর নিজের বিবেককে প্রাধান্য দিতে অক্ষম হয়ে পড়ি আমরা।
এই কারণে choice is the first revolution।
মানুষের নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ—তার প্রথম ও সর্বোচ্চ স্বাধীনতা, যা বিনোদিনী চেয়েছিল।
আসলে বিনোদিনী প্রেম খুঁজছিলেন না, তিনি খুঁজছিলেন নিজের জীবনের ওপর নিজের অধিকার।
