আলালের ঘরের দুলাল | পর্ব-২

আলালের ঘরের দুলাল | পর্ব ২
মতিলালের কলকাতা
মতিলালের কলকাতা— শুধু একটা শহর নয় একটা mood।
উনিশ শতকের কলকাতা তখন নিজের পুরোনো চেহারা ছেড়ে একটা নতুন রূপ নিচ্ছে ।
একদিকে সাহেবদের গাড়ি, নতুন রাস্তা,নতুন শিক্ষা,নতুন ব্যবসা।
অন্যদিকে— বাবুদের বাড়িতে জলসা,থিয়েটার,গান-বাজনা, বিলাস,আড্ডা আর রাত জাগা কলকাতা।
দিনে respectable। রাতে—কলকাতা একটু বেশিই honest।
এই শহরেই তৈরি হয়েছিল এমন এক শ্রেণি—
যারা এক হাতে ইংরেজি civilisation-কে imitate করা ধরেছিল, আর অন্য হাতে পুরোনো সামাজিক privilege তো রয়েছেই।
প্যারীচাঁদ সেই শহরটাকে তাঁর লেখনিতে হাঁটতে দিয়েছেন। কখনো গলির ভিতর দিয়ে আবার কখনও বাবুদের বৈঠকখানায়,আড্ডায় বা বিনোদনের আসরে।
শহরের সেই জায়গাগুলোয়— যেখানে respectable সমাজের polished মুখটা একটু নরম হয়ে যায় সেখানেই আলালের ঘরের দুলাল আজও মজার।
কারণ টেকচাঁদের কলকাতা শুধু নতুন কিছু শিখছিল না। বাঙালি শিখছিল শোঅফ কি করে করতে হয় । শিক্ষা status,পোশাক identity আর বিলাস হয়ে উঠেছিল lifestyle ।
আর শহরটা ধীরে ধীরে এমন একটা জায়গায় পরিণত হচ্ছে— যেখানে মূলত বহিরাঙ্গের চাকচিক্যকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু এই কলকাতাকে শুধু হাসির শহর ভাবলেও ভুল হবে। কারণ এখানেই পাশাপাশি তৈরি হচ্ছিল— শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ। নতুন সংবাদপত্র,থিয়েটার,রাজনৈতিক চেতনা।
পুরোনো শহর কলকাতার ভিতরেই জন্ম নিচ্ছিল একটা নতুন কলকাতা ।
আর আলালের ঘরের দুলাল সেই জন্মের খুব কাছ থেকে তোলা একটা Filter ছাড়া raw literary photograph। যেখানে শহরের glamorous-ও ridiculous দুটি দিকই বর্তমান।
তাই মতিলালের কলকাতা শুধু হাসির কলকাতা নয়। সেই কলকাতায় যেমন আধুনিকতার প্রথম আলো এসে পড়েছিল,সঙ্গে ছায়াও তৈরি হয়েছিল।
টেকচাঁদ ঠাকুর সেই আলো-ছায়া দুটোই লিখে গেছেন।
পরের পর্বে—আমরা পুরোনো কলকাতার আয়না দিয়ে আজকের শহরটাকে একটু দেখার চেষ্টা করব।
