আলালের ঘরের দুলাল

আলালের ঘরের দুলাল পর্ব — ১
১৮৫৭।
একদিকে সিপাহি বিদ্রোহ। আর অন্যদিকে হাসির বিদ্রোহ।
টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে প্যারীচাঁদ মিত্র লিখলেন—
‘আলালের ঘরের দুলাল’।
কিন্তু এই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা ভাষায়।
যে সময়ের বাংলা গদ্য ছিল অনেকটাই সংস্কৃতঘেঁষা ও আড়ষ্ট,
প্যারীচাঁদ গল্পকে নিয়ে এলেন—
কথ্য বাংলার অনেক কাছাকাছি।
এবং এটিই হয়ে উঠলো কথ্য ভাষায় লেখা প্রথম বাংলা উপন্যাস, কথ্য ভাষার সাহিত্যের ভাষায় রূপান্তর হল
আর সেই ভাষার মধ্যেই জন্ম নিল একটি চরিত্রটি - মতিলাল।
ধনী পরিবারের সন্তান।
অর্থের বা সময়ের অভাব নেই।
আছে সাহেবি চালচলনের প্রতি আকর্ষণ,
বিলাসের প্রতি দুর্বলতা,
আর নিজেকে আধুনিক দেখানোর এক অদ্ভুত তাগিদ।
প্যারীচাঁদ শুধু মতিলালকেই হাসির চরিত্র করেননি পাশাপাশি একটা গোটা শহরকে ব্যাঙ্গাত্বক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখিয়েছেন.
তাঁর চারপাশে তৈরি করেছেন এক সম্পূর্ণ শহর—
বাবুদের কলকাতা।
যেখানে পোশাক,ভাষা একটা পরিচয় বা প্রদর্শন। বিদেশি অনুকরণ একটা সামাজিক মর্যাদা।
আর সেই ভেতরের শূন্যতাই — আসল হাসির বিষয়।
প্যারীচাঁদের ব্যঙ্গের সৌন্দর্য এখানেই।
তিনি শুধু দৃশ্যটা সামনে রেখেছেন মাত্র ।
তারপর পাঠক নিজেই তার মূল্যায়ন করেছে ।
আলালের ঘরের দুলাল তাই শুধু একটি স্যাটায়ার ধর্মী উপন্যাস নয়। এটি বাংলা গদ্যের ভাষা বদলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুভমেন্ট ।
আর মতিলাল শুধু একটি চরিত্র নয়। সে ওই সময়ের কলকাতার সামাজিক প্রতিকৃতি।
১৮৫৭-র সেই কলকাতা আজ আর নেই।
কিন্তু তার বাবুয়ানা, তার অনুকরণ, তার প্রদর্শন—
তবে এখানেই শেষ নয়
পরের পর্বে বলব —মতিলালের কলকাতার কথা।
