চিত্ত যেথা ভয়শূন্য

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,
জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর
আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী
বসুধারে রাখে নাহি খণ্ড ক্ষুদ্র করি।
যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে
উচ্ছ্বসিয়া ওঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতে
দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায়
অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়।
যেথা তুচ্ছ আচারের মরু বালুরাশি
বিচারের স্রোতপথ ফেলে নাহি গ্রাসি,
পৌরুষেরে করেনি শতধা, নিত্য যেথা
তুমি সর্ব কর্ম, চিন্তা, আনন্দের নেতা।
নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি পিতা
ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত।
যেখানে ভয় মানুষের মুখ বন্ধ করবে না, যেখানে জ্ঞান কারো ব্যক্তিগত বা কোনো শ্রেণীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে না। যেখানে ধর্ম, জাত, অঞ্চল—কোনো পরিচয়ই দেওয়াল হয়ে মানুষের বিভাজন করবে না। আর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে যুক্তি কোনো মৃত অভ্যাসের কাছে মাথা নত করবে না। এটাই রবীন্দ্রনাথের স্বাধীনতা, এটাই এই কবিতার সারমর্ম।
