
Waltzing Mahila
“বদলে যাওয়া পোশাক কখনও কখনও বদলে যাওয়া সমাজের সবচেয়ে স্পষ্ট দলিল।”
ছবিটা দেখুন।
একজন বাঙালি বিবাহিতা নারী—সিঁথিতে সিঁদুর, পরনে শাড়ি, গলায় হার, হাতে চুড়ি। কিন্তু তাঁর শরীরের ভঙ্গি একেবারেই পরিচিত বাঙালি গৃহবধূর মতো নয়।
তিনি Waltz নাচছেন এক শ্বেতাঙ্গ পুরুষের সঙ্গে। পুরুষটির হাত তাঁর কোমরে, আর তাঁর হাত পুরুষটির কাঁধে। মুখে সংকোচ নেই—আছে আত্মবিশ্বাস।
গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘Waltzing Mahila’ তাই নিছক একটি নাচের দৃশ্য নয়। এটি ঔপনিবেশিক বাংলায় তৈরি হওয়া এক নতুন ‘আধুনিক নারী’র ব্যঙ্গচিত্র।
ব্লাউজ, পেটিকোট, শাড়ি পরার নতুন ধরন—সবই সেই পাশ্চাত্য প্রভাবিত ‘ভদ্রমহিলা’ তৈরির প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু সিঁথির সিঁদুর আবার তাঁকে তাঁর পুরনো সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মধ্যেই আটকে রাখে।
অর্থাৎ, শরীরটা আধুনিক হচ্ছে— কিন্তু পরিচয়টা এখনও পুরনো।
আর এই দ্বন্দ্বকেই গগন ঠাকুর নাম দিয়েছেন—‘Wrong Cooperation’।
ইংরেজি শিরোনাম ‘Non-Cooperation’ যেন ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি; কারণ ছবিতে সহযোগিতার অভাব নেই—বরং আছে অতিরিক্ত স্বাচ্ছন্দ্য।
সমস্যাটা আসলে নাচে নয়। সমস্যাটা ছিল—কে কার সঙ্গে নাচছে, এবং সেই নাচ সমাজের কোন নিয়মকে ভেঙে দিচ্ছে।
তাই এই ব্যঙ্গচিত্রের নৈতিকতা খুব সরল— আধুনিকতা যখন অনুকরণে পরিণত হয়, তখন স্বাছন্দের মুখোশের আড়ালেও সামাজিক বিদ্রোহ লুকিয়ে থাকতে পারে।
