তিতুমীর- মহাশ্বেতা দেবী

তিতুমীর
মহাশ্বেতা দেবীর তিতুমীর পড়লে প্রথমেই একটা জিনিস বোঝা যায়— তিতুমীর শুধুমাত্র একজন ধর্মীয় নেতা বা ব্রিটিশ-বিরোধী যোদ্ধা ছিলেন না.
তিনি ছিলেন সেই কৃষকের কণ্ঠস্বর, যার জমি ছিল—কিন্তু অধিকার ছিল না। যে খাটত—কিন্তু ফসলের উপর তার নিজের অধিকার ছিল না।
জমিদার, মহাজন, নীলকর আর ঔপনিবেশিক শাসনের চাপে যে মানুষগুলো শুধুই নিপীড়িত কৃষক ছিলেন মহাশ্বেতা দেবী তাঁদেরকে ইতিহাসের কেন্দ্রে এনে দাঁড় করিয়েছেন।
দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পন নাটকটি পড়লে সেই সময়ের কিছুটা আভাস পাওয়া যায়,এবং আমি সাধ্যমত সেটির গল্প তিনটি পর্বে এই পেজ থেকে আগে বলেছি.
তা যেটা বলছিলাম - সেই কারণেই কিন্তু তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা কে শুধু একটা দুর্গ বললে যা বলা হয় না সেটা হল এটা ছিল শোষিত মানুষের একটা declaration: যে
“আমরাও প্রতিরোধ করতে পারি।”
১৮৩১-এ নারকেলবেড়িয়ায় তিতুমীর মারা গেলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু তাঁর ইতিহাসকে শেষ করেনি।
কারন কৃষকরা যথেষ্ট অত্যাচারিত হওয়া সত্ত্বেও, তিতুমীরের আইডাওলোজি কে মাথায় রেখে বিদ্রোহ চালিয়ে গেছেন ফলে একই সাথে ন্যায় ও তিতুমীরের জয় হয়েছে.
তাই তিতুমীরের গুরুত্ব বুঝতে হলে একটু ইতিহাস পড়তেই হবে এবং মানুষকে এটা বুঝতে হবে যে -
তিতুমীরের গুরুত্ব বাংলার মাটিতে— আর সেই মাটির মানুষগুলো অর্থাৎ আমাদের স্মৃতিতে। তাই তাঁর নাম কোনো ফলক থেকে মুছে দিলেও ইতিহাস-কে মুছে দেওয়া সম্ভব হবে না.
প্রতি প্রত্যেক বাঙালির কাছে আমার অনুরোধ রইল, মহাশ্বেতা দেবীর "তিতুমীর"- উপন্যাসটি পড়ার ও সঠিক ইতিহাস জানার.
