কমলাকান্তের দপ্তর | পর্ব-২

কমলাকান্তের দপ্তর - পর্ব-২ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
"বিড়াল বড়ই উপকারী জীব।”
একটা বিড়ালকে নিয়ে এত বড় philosophy লেখা যায়— এটা বোধহয় শুধু ব্যাঙ্কিমচন্দ্রই পারতেন।
কামালকান্তের দপ্তর-এর ‘বিড়াল’প্রবন্ধটির শুরু হয় খুবই সাধারণ ভাবে—
বিড়ালের ক্ষুধা লেগেছে।
কামালকান্তের কাছে খাবার চাওয়া মানেই তো আর খাবার পাওয়া নয়।
সেখান থেকে শুরু হয়— একটা অসম্ভব funny এবং স্যাটায়ারিকাল argument।
বিড়াল বলছে, আমার খিদে পেয়েছে।
কামালকান্তের মাথায় তখন চলছে— কমিউনিস্টিক চিন্তাভাবনা সম্পত্তি,অধিকার,মানুষের লোভ,সমাজের নিয়ম।
মানে, বিড়াল ভাত চাইতে এসেছিল— কামালকান্ত তাকে economics পড়াতে বসে গেলেন।
একটা সাধারণ প্রাণীকে সামনে রেখে খুব সাবলীল ভাবে মানুষের সভ্যতার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিলেন।
মানুষ বলে—“এটা আমার।”
বিড়াল বলে—“তাহলে খাওয়াবে কে?”
আর এই ছোট্ট সংঘর্ষের মধ্যে বেরিয়ে আসে বড় একটা irony—
মানুষ পৃথিবীকে ভাগ করেছে মালিকানা দিয়ে। তারপর সেই মালিকানার চারপাশে বানিয়েছে—
আইন,নৈতিকতা,সমাজ,আর অসংখ্য justification।
একটা ক্ষুধার্ত বিড়ালের কাছে অবশ্য এসবের কোনো value নেই।
তার কাছে—
খিদে মানে খিদে।
কামালকান্ত তাই এখানে আর philosopher হওয়ার চেষ্টা করেন না। সে শুধু একটা অদ্ভুত situation-কে নিজের মতো করে দেখতে থাকে।
আর ব্যাঙ্কিম সেই ঘোরের ভিতর দিয়ে আমাদের সামনে ধরেন—
মানুষের সবচেয়ে sophisticated সমস্যাগুলোও কখনও কখনও খুব basic জায়গা থেকে শুরু হয়।
খিদে,লোভ। আর— “এটা আমার।”
এই জন্যই বিড়াল-প্ৰবন্ধটি শুধু একটা funny story নয়। বরং হাস্যরসের অন্তরালে satire কে ব্যাবহার করার একটা brilliant trick—
হাসতে হাসতে মানুষের সভ্যতাটাকে একটু বিড়ালের চোখে দেখা।
পরের পর্বের বলব— কামালকান্তের নেশার ঘোর থেকে যখন রাজনীতি, সমাজ আর মানুষ—সবাই একটু বেঁকে যেতে শুরু করবে সেই কথা।
