আনন্দমঠ | অন্তিম পর্ব

“A people without the know। edge of their past history, origin and culture is। ike a tree without roots.” - Marcus Garvey. ১৯০৫ সালে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথমবারের মতো বঙ্কিমচন্দ্রের ভারতমাতার সাহিত্যিক কল্পনার দৃশ্যের ভাষা দিলেন। দেবীমূর্তি কল্পনা করলে সাধারণত হাতে তলোয়ার, ত্রিশূল, খাঁড়া—এই চিত্রই ভেসে ওঠে। কিন্তু অবনীন্দ্রনাথের ভারতমাতার হাতে শোভিত পুস্তক, ধানের শীর্ষ, শ্বেতশুভ্র বস্ত্র ও একটি রুদ্রাক্ষমালা। এই মূর্তি যুদ্ধের নয়, এ এক সভ্যতার মূর্তিমান মানচিত্র। চতুর্ভুজার এক হাতে বই, অর্থাৎ জ্ঞান, ধানের শীর্ষ হলো জীবন-সমৃদ্ধি, রুদ্রাক্ষ আত্মশক্তি; কিন্তু শুভ্র বস্ত্র কেন? তিনি তো গেরুয়া বস্ত্রও আঁকতে পারতেন? ভারতমাতা কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতীক নন। তিনি ত্যাগ, পবিত্রতা ও মানবিকতার প্রতীক। শ্বেতশুভ্র বস্ত্র সংযমের প্রতীক। রাজনৈতিক ব্যানারে ভারতমাতার স্থান হয়েছে আর প্রতিটি মিছিলে বন্দে মাতরম্ শুধু একটি স্লোগান হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদৌ কি ছবির ভাষা বা সাহিত্যের সৃষ্ট স্রোতের সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে? বন্দে মাতরম্ সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলাম্। This is more than a statement; it's a sacred proclamation of allegiance to the land. ভারত বহু বৈচিত্র্যের দেশ, যেখানে মিলন ঘটেছে নানা ধর্ম, দর্শন, সংস্কৃতির শতাব্দী ধরে। এই বহুত্বই এই দেশের শক্তি। For India's identity is not mono। ithic, it is coming together. Thus our faith remains unbroken. ভারত আবার জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে। সেই আসন হবে জ্ঞান, সংস্কৃতি, সহিষ্ণুতা ও মানবিকতার। এই সৃষ্টিকর্তা মহামানবদের ইতিহাস অতিক্রম করেছে, শুধু রয়ে গেছে প্রশ্ন। রাজনীতি রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারে, সাহিত্য জাতিকে নির্মাণ করে।
