নীলদর্পণ
📅7 August 2026(২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩)•⏱2 min read•👁3 readers

“আমি নীলকরদের হাতে এই নীলদর্পণ অর্পণ করিলাম। তাহারা যেন ইহাতে নিজেদের মুখ দেখিয়া স্বার্থপরতার কলঙ্ক মুছিয়া ফেলেন।”
নীলদর্পণ-এর ভূমিকায় এই কথাই লিখছেন দীনবন্ধু মিত্র।
আচ্ছা, কতটা সত্য লিখলে একটা নাটককে ক্ষমতা ভয় পায়?
১৯ শতকে অত্যাচারী শোষণকারীদের বিরুদ্ধে একজন আয়না ধরলেন, যিনি দীনবন্ধু মিত্র, আর তাঁর নাটক নীলদর্পণ। সেই আয়নায় মুখ দেখতে নারাজ ছিল সাম্রাজ্য।
শুধু তাই নয়, Reverend James Long যখন এই নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করলেন, ইংরেজ সরকার মামলা করে তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাল এবং জরিমানা দিতে হলো Long-কে।
কারণ ক্ষমতা যে জিনিসটা কখনোই সহ্য করতে পারে না, তা হলো নিজের সত্যিকার মুখ।
James Long আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আমার এই নাটকের তর্জমা করার উদ্দেশ্য বাংলা নীলচাষিদের প্রকৃত অবস্থাকে জনসমক্ষে তুলে ধরা।
একবার ভাবুন, একটা নাটক, একটা অনুবাদ, আর পুরো ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা অস্বস্তিতে।
নীলদর্পণ শুধু একটি নাটক নয়, এ বাংলার কৃষকদের ঐতিহাসিক দলিল। জমির মালিকের তার ফসলের মালিকানা ছিল না, অথচ শ্রম ছিল নিজের আর লাভ অন্যের।
ধরুন, আপনার কষ্টের পয়সায় তৈরি বাড়িতে থাকা ভাড়াটে আপনার কাছেই ভাড়া দাবি করছে। হ্যাঁ, শুনতে অবাস্তব ও হাস্যকর লাগে, তবে ঠিক এই পরিস্থিতিই হয়েছিল ১৯ শতকের কৃষকদের।
এই কারণে এই নাটক হয়ে উঠেছিল ক্ষমতার বিরুদ্ধে বাংলার প্রথম বড় charge sheet।
বন্দুক সাম্রাজ্য তৈরি করতে পারে, কিন্তু একটা বই সাম্রাজ্যের মুখোশ খুলে দিতে পারে।
আজ আমরা জানলাম নীলদর্পণ কেন ইতিহাসের অংশ। কিন্তু যা জানলাম না, তা হলো—কেন নীলচাষ এত ভয়ংকর ছিল? কেন একজন লেখক কলমকে অস্ত্র করে এই নাটক লিখতে বাধ্য হয়েছিলেন?
সেই ইতিহাসই বলব পরের পর্বে।
— thoughts.whatever
Continue The Journey
